দুবাইয়ে বসেছিলো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুই দিনের বৈঠক। সেখানে টেস্ট, একদিনের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টির নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো টেস্টে দ্বি-স্তর নীতির ভাগ্য। তবে প্রথমদিনের আলোচনার পর জানা যায় দ্বি-স্তর নীতি থেকে সরে আসছে আইসিসি। এদিকে টেস্টের সুখবরের পর একদিনের ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও ভালো কিছুর পূর্বাভাস মিলেছে। ২০২৩ বিশ্বকাপের দল বাছাইয়ের জন্য দ্বি-পাক্ষিক একদিনের সিরিজ আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে আইসিসি।
আইসিসির নির্বাহী কমিটির এই বৈঠকে এক দিনের এই সিরিজ আয়োজন নিয়ে বেশ আগানো হয়েছে। আর এটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ ও র্যাঙ্কিং এর নিচের দিকের দলের জন্য অনেক সুসংবাদ বয়ে আনবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগের থেকে অনেক একদিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে টাইগাররা। পাশাপাশি বেড়ে যাবে টি-টোয়েন্টির ম্যাচ সংখ্যাও।
একদিনের সিরিজে অনেক সময় দেখা যায়, একদল তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলে। পাঁচ ম্যাচের একদিনের সিরিজেও এমনটা লক্ষ্য করা যায়। ফলে বাকি ম্যাচগুলোর গুরুত্ব থাকে না। দ্বি-পাক্ষিক সিরিজের সব ম্যাচকেই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে এই পরিকল্পনা করতে যাচ্ছে আইসিসি। এর ফলে প্রত্যেক দল একে অপরের সাথে খেলে নিজেদের পয়েন্ট বাড়ানোর সুযোগ পাবে। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে একদিনের স্ট্যাটাস পাওয়া ১৩ টি দল প্রত্যেকেই একে অপরের সাথে অন্তত একটি হলেও সিরিজ খেলবে। যা ২০২৩ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হিসেবে কাজ করবে। টি-টোয়েন্টির ক্ষেত্রেও একই রকম পরিকল্পনা করতে যাচ্ছে আইসিসি। বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ আগের থেকে আরো অনেক বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের সঙ্গে অন্তত একটি হলেও সিরিজ থাকবে। এই প্রস্তাব পাশ হলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিও আগের থেকে অনেক বেশি গুরুত্ব পাবে। প্রতিটি দ্বি-পাক্ষিক সফরে যতোটি একদিনের ম্যাচ থাকবে ঠিক ততোটিই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ থাকবে। এমনটাই জানিয়েছেন আইসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাট।
এদিকে টেস্ট ক্রিকেটে চালু হতে যাচ্ছে প্লে-অফ চ্যাম্পিয়নশিপ পদ্ধতি। এতোদিন ধরে টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানে থাকার ভিত্তিতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণ করা হতো। তবে সামনে আর এই পদ্ধতি থাকছে না। প্লে-অফ চ্যাম্পিয়নশিপ পদ্ধন্তি শুরু হলে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুটি দেশের মধ্যে আলাদা করে টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে শিরোপা নির্ধারণের লড়াই হবে। ইতিমধ্যে সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধানরা এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে সমর্থন দিয়েছেন।
আগামী অক্টোবরে আইসিসির বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাট। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ পদ্ধতি ভালো ফল দিতে পারে। এরই মধ্যে বোর্ড প্রধানরা প্রাথমিকভাবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে সমর্থন করেছে।” দুই বছর পর পর এই পদ্ধতির মাধ্যমে শীর্ষস্থান দখলের লড়াই হবে। অক্টোবরের আইসিসির সভায় এটি পাশ হলে ২০১৯ সাল থেকে প্লে-অফ চ্যাম্পিয়নশিপ পদ্ধতি চালু হবে।
দ্বি-স্তর পদ্ধতির শুরু থেকে বিরোধিতা করে বাংলাদেশ। এর সাথে যুক্ত হয় শ্রীলংকা ও ভারত। তাই তাদের সেই পদ্ধতি থেকে সেরে এসে অন্য কিছু ভাবতে হয়েছে আইসিসিকে। এই প্রসঙ্গে হারুন লরগাট বলেন, “কয়েকটি দেশ দ্বি-স্তর পদ্ধতির বিরোধিতা করায় টেস্টের উন্নয়নে আমাদের ভিন্ন পথ খুঁজতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমরা টেস্টে ক্রিকেটে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে প্লে-অফ পদ্ধতি চালু করার কথা ভাবছে আইসিসি।”

